নিম পাতা ব্যবহারের উপকারিতা সম্পর্কে জানুন

প্রিয় পাঠক, আপনি কি জানেন নিমপাতা ব্যবহারের উপকারিতা।  নিম পাতা ব্যবহারের উপকারিতা অনেক। নিম পাতা ত্বকের যত্নে এবং চুলের যত্ন ব্যবহার করা হয়। স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারী নিমপাতা।নিমপাতা সকল রোগের মহা ঔষধ। আপনারা যদি নিম পাতা ব্যবহারের উপকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে না থাকেন তাহলে আমার আর্টিকেলটি সম্পূর্ণ মনোযোগ সহকারে পড়ুন।


নিম পাতা ব্যবহারের উপকারিতার ফলে ম্যালেরিয়া, জ্বর, ডায়াবেটিস আরো বিভিন্ন রোগের জন্য উপকারী। রূপচর্চার জন্য নিম পাতার সঙ্গে কাঁচা হলুদ ও এক চামচ মধু মিশিয়ে ফেসপ্যাক বানিয়ে মুখে ব্যবহার করা যায়। আয়ুর্বেদিক শাস্ত্রে নিম পাতার গাছকে জাদুকরী গাছ বলা হয়েছে। নিম গাছের ডাল মেসওয়াক হিসেবে দাঁতের জন্য ব্যবহার করা হয়। দাঁতের জন্য নিম পাতা চমৎকার কাজ করে।

ভূমিকা

নিমপাতা গরম পানিতে ভালোভাবে ফুটিয়ে সে পানি দিয়ে গোসল করলে ত্বকের সংক্রমণ কমে। চুলের অতিরিক্ত খুশকি দূর করতে নিমপাতা ম্যাজিক এর মত কাজ করে। মুখের ব্রণ চোখের নিচের কালো দাগ ভালো করার জন্য নিম পাতা ব্যবহার করা হয়। বিভিন্ন চর্মরোগ সংক্রমণের কাজে নিম পাতা বেশ উপকারি। বিভিন্ন খাবারের মাধ্যমে আমাদের শরীরে টক্সিন প্রবেশ করে। টক্সিন বের করতে নিম পাতার রস বেশ কার্যকারী। সকালে ঘুম থেকে উঠে নিমপাতা প্রতিদিন খেলে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা পেটব্যথা আলসার এবং বিভিন্ন রোগের সমাধান করে। নিম গাছের প্রত্যেকটি অংশ বিভিন্ন রোগের সমাধান করে।

নিম পাতা ব্যবহারের  উপকারিতা

নিমপাতা ব্যবহারের উপকারিতা বেশ কার্যকরী।চুলকানি, দাঁত ব্যথা, বাত ব্যথা, ত্বকের যত্ন ও চুলের যত্নে নিমপাতা ব্যবহার করা হয়। মুখে অতিরিক্ত কালো দাগ এবং ব্রণের জন্য আমরা হতাশ হয়ে পড়ি। হাতের কাছেই নিম পাতার সাথে মধু মিশিয়ে এক চামচ লেবুর রস দিয়ে মুখে লাগালে খুব সহজেই মুখের কালো দাগ এবং ব্রণ ভালো হয়ে যায়। অতিরিক্ত চুলকানির কারণে শরীর ক্ষত হয়ে যায়। সে ক্ষেত্রে নিম পাতার ফুল বেটে ক্ষত জায়গায় লাগিয়ে দিলে কিছুদিনের মধ্যেই ক্ষত জায়গা শুকিয়ে যেতে শুরু করে।

অতিরিক্ত বাত ব্যথার কারণে অনেকেই খুব কষ্ট পাই। বাত ব্যথা খুব দ্রুত ভালো করতে নিমপাতা রস খুব দ্রুত কাজ করে। চুল উস্কো থাকলে মাথায় নিমপাতা বেটে কিছুক্ষণ রেখে ধুয়ে ফেললে চুল সুন্দর হয়ে ওঠে। কৃষি ক্ষেত্রে নিম পাতার রস ব্যবহার করা হয়। পোকা দমনের ক্ষেত্রে শাক সবজির গায়ে নিম পাতার রস স্প্রে করলে পোকার হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। নিম পাতার ব্যবহার অপরিসীম।

নিম পাতা কি কি রোগের কাজ করে

  • চুলকানি 
  • কৃমিনাশক 
  • দাঁত থেকে রক্ত পড়া
  • চুলের যত্নে নিমপাতা  
  • ত্বকের জন্য নিমপাতা 
  • জন্ডিস  
  • বাত ব্যথা 
চুলকানি - চুলকানি ঘা এর জন্য নিমপাতা ভালোভাবে বেটে গায়ে লাগালে খুব সহজেই চুলকানি ঘা ভালো হয়।

কৃমিনাশক - ক্রিমিনাশক ভালো করতে সকালে খালি পেটে লবণের সাথে নিম পাতার রস সেবন করলে কৃমি থেকে আরোগ্য লাভ করা যায়।  

দাঁত - দাঁত থেকে রক্ত পড়া, দাঁতের মাড়ি ফোলা থেকে রক্ষা পেতে হলে নিম পাতার ডালের মেসওয়াক করলে খুব সহজেই আরাম পাওয়া যায়। 

চুলের যত্নে নিমপাতা - চুলের উকুন ও খুশকি দূর করতে নিমপাতা বেটে মাথায় লাগিয়ে কিছুক্ষণ পর শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেললে খুশকি এবং চুলের উকুন ভালো হয়।

ত্বকের জন্য নিমপাতা - ত্বকের কালো দাগ ব্রণ দূর করতে নিম পাতার ফেসওয়াশ ব্যবহার করতে পারেন।

জন্ডিস - জন্ডিস হলে নিম পাতার রসের সাথে মধু মিশিয়ে খালি পেটে এক চামচ সেবন করলে জন্ডিস রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

বাত ব্যথা - বাত ব্যথার ফোলা জায়গায় নিম পাতার তেল মালিশ করলে ফোলা জায়গা থেকে আরোগ্য লাভ করা যায়।

সকালে খালি পেটে নিম পাতা খেলে কি হয়

  • পেটের  কৃমি দূর হয়
  • রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে
  • রক্ত পরিষ্কার করতে সাহায্য করে
  • ডায়াবেটিকস নিয়ন্ত্রণ করে
  • পেট ব্যথা এবং এসিডিটি থেকে মুক্তি পাওয়া যায়
  • হজম শক্তির সমস্যা হলে হজম শক্তি বাড়িয়ে দেয়

নিম পাতার অপকারিতা

গর্ভবতী মহিলারা নিমপাতা সেবন করলে গর্ভপাত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। অতিরিক্ত পরিমাণে নিম পাতা খেলে বৃক্ষ কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।এলার্জি সংক্রমণ রোগীরা নিমপাতা ব্যবহার করলে সমস্যা হতে পারে।

নিম পাতা ও কাঁচা হলুদের গুনাগুন


ত্বকের যত্নে নিমপাতা ও কাঁচা হলুদের গুনাগুন অনেক। নিম পাতার রস ও হলুদের রস একসাথে মিশিয়ে শরীরের লাগালে এলার্জি থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।নিম পাতা কাঁচা হলুদ একসাথে খেলে শক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। নিম পাতা ও কাঁচা হলুদ একসাথে বেটে মুখে লাগালে ত্বকের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে। নিম পাতা ও কাঁচা হলুদ একসাথে মিশিয়ে খেলে অনেক পুষ্টিগুণ পাওয়া যায়। রোদে পোড়া কালো দাগ দূর করতে নিমপাতা ও কাঁচা হলুদের পেস্ট একসাথে মিশিয়ে মুখে কিছুক্ষণ লাগিয়ে রাখলে মুখের কালো দাগ দূর হয়। এমনকি চোখের নিচের কালো দাগ দূর করার ক্ষেত্রেও নিমপাতা ও কাঁচা হলুদ ব্যবহার করতে পারেন।

লেখকের মন্তব্য


নিম গাছের প্রত্যেকটি অংশ প্রত্যেকটি রোগের ঔষধ। নিম গাছের পাতা যেমন উপকারিতা আছে তেমন অপকারিতা আছে। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিম গাছের পাতা ব্যবহার করবেন। আলোচ্য বিষয়ে আমি নিম পাতার ব্যবহারের উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে আলোচনা করেছি।

আপনারা যদি নিম পাতার ব্যবহারের উপকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে থাকেন তাহলে, আপনাদের বন্ধু বান্ধবীদের সাথে শেয়ার করতে পারেন। স্বাস্থ্যকর টিপস পেতে তামান্না আইটির পাশে থাকুন।




এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url